ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application) – ২০২৬ সালের সহজ ও সম্পূর্ণ পদ্ধতি

দেশের বাইরে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ভাবলেই সবার প্রথমে যে জিনিসটি মাথায় আসে তা হলো পাসপোর্ট। একটা সময় ছিল যখন পাসপোর্ট করা মানেই ছিল দীর্ঘ লাইন, দালালদের দৌরাত্ম্য আর মাসের পর মাস অপেক্ষার পালা। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে সেই দিন পাল্টে গেছে। এখন ঘরে বসেই খুব সহজে ই পাসপোর্ট করার নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করা সম্ভব। আপনি যদি e passport application bd লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকেন এবং একটি সঠিক ও বিস্তারিত তথ্যসমৃদ্ধ লেখা খুঁজছেন, তবে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনার মনে পাসপোর্ট নিয়ে আর কোনো দ্বিধা থাকবে না।

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কীভাবে আপনি নিজে নিজেই অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, ফি কত এবং কোথায় কীভাবে জমা দিতে হবে। কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই আপনি যেন খুব সহজে আপনার কাঙ্ক্ষিত ই পাসপোর্ট হাতে পান, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। চলুন তাহলে আর দেরি না করে মূল আলোচনায় প্রবেশ করি।

ই পাসপোর্ট কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

ই পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো এমন এক ধরনের পাসপোর্ট যার ভেতরে একটি মাইক্রোচিপ বসানো থাকে। এই চিপের মধ্যে পাসপোর্টধারীর যাবতীয় তথ্য, যেমন নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, চোখের আইরিশের স্ক্যান এবং আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে।

পুরোনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি এর তুলনায় ই পাসপোর্ট অনেক বেশি নিরাপদ। এটি জাল করা প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোতে ই গেট বা স্বয়ংক্রিয় গেট থাকে, যেখানে ই পাসপোর্ট ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা যায়। তাই ঝামেলাহীন ভ্রমণের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application ) – ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

যেকোনো কাজের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। তেমনি ই পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রেও কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। যারা e passport application সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি খুব সহজভাবে ভেঙে ভেঙে আলোচনা করা হলো।

প্রথম ধাপ: অনলাইনে আবেদন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন

পাসপোর্ট করার প্রথম কাজটি হলো বাংলাদেশ সরকারের ই পাসপোর্ট পোর্টালে গিয়ে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। এটি খুবই সহজ একটি কাজ।

প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে বাংলাদেশ সরকারের ই পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সেখানে উপরে ডানদিকে অ্যাপ্লাই অনলাইন নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করলে আপনাকে একটি নতুন পেজে নিয়ে যাবে।

এখানে আপনাকে প্রথমে আপনার বর্তমান ঠিকানা অর্থাৎ আপনি এখন যে জেলায় এবং থানায় আছেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। এর কারণ হলো, আপনি যে এলাকার ঠিকানা দেবেন, আপনাকে সেই এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর আপনাকে একটি সচল ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে হবে। ইমেইলটি অবশ্যই আপনার নিজের এবং সচল হতে হবে, কারণ এখানেই আপনার পাসপোর্টের সব আপডেট আসবে। ইমেইল দেওয়ার পর আপনার নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। সব তথ্য ঠিকঠাক দিলে আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক যাবে। সেই লিংকে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড সেট করলেই আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরির কাজ শেষ।

দ্বিতীয় ধাপ: ই পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ

অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। এরপর অ্যাপ্লাই ফর আ নিউ ই পাসপোর্ট অপশনে ক্লিক করুন। এখন আপনার সামনে একটি বড় ফরম আসবে। এই ফরমটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত। তাড়াহুড়ো না করে খুব সাবধানে প্রতিটি তথ্য পূরণ করতে হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য অংশে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, পেশা, ধর্ম এবং জন্মস্থান ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে। মনে রাখবেন, এখানে আপনি যে নাম বা জন্ম তারিখ দেবেন তা যেন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের পোর্টালে থাকা তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। সামান্য একটি অক্ষরের ভুল থাকলেও পরে অনেক বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

ঠিকানার অংশে আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে। আপনি যদি বর্তমানে আপনার স্থায়ী ঠিকানাতেই থাকেন, তবে একটি বক্সে টিক দিলেই দুটি ঠিকানা এক হয়ে যাবে। আর যদি আলাদা হয়, তবে বর্তমান ঠিকানাটি খুব স্পষ্টভাবে লিখতে হবে, কারণ পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ আপনার এই ঠিকানাতেই আসবে।

আইডি ডকুমেন্ট অংশে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিতে হবে। আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়, তবে জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে। এরপর জরুরি যোগাযোগের জন্য আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন বা স্ত্রীর নাম ও নম্বর দিতে হবে, যাতে কোনো বিপদে পাসপোর্ট অফিস তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

তৃতীয় ধাপ: পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ নির্বাচন

ফরমের শেষের দিকে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনি কত পৃষ্ঠার এবং কত বছর মেয়াদের পাসপোর্ট চান। বর্তমানে ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট দেওয়া হয়, যার মেয়াদ থাকে ৫ বছর অথবা ১০ বছর।

আপনি যদি খুব বেশি দেশের বাইরে যাতায়াত করেন, তবে ৬৪ পৃষ্ঠার এবং ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে বারবার পাসপোর্ট রিনিউ করার ঝামেলা থাকে না। আর যদি মাঝে মাঝে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট করতে চান, তবে ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট নিতে পারেন।

ই পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সঠিক ই পাসপোর্ট করার নিয়ম মানার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো সঠিক কাগজপত্র জমা দেওয়া। আপনার বয়স অনুযায়ী কাগজপত্রের কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি এবং একটি ফটোকপি।
  • বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির বিলের কপি।
  • পেশার প্রমাণপত্র। আপনি যদি চাকরিজীবী হন তবে অফিসের আইডি কার্ড বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। আর যদি ছাত্র হন তবে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড।
  • আগের কোনো পাসপোর্ট থাকলে তার মূল কপি এবং ডাটা পেজের ফটোকপি।
  • বিবাহিত হলে কাবিননামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেটের কপি।

শিশুদের জন্য অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বছরের কম:

  • শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের ইংরেজি ভার্সন এবং তার ফটোকপি।
  • পিতা ও মাতা দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
  • শিশুর ছবি পাসপোর্ট সাইজের তবে সেটি আবেদন ফরমে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে।
  • পিতা বা মাতার যেকোনো একজনকে পাসপোর্ট অফিসে শিশুর সাথে উপস্থিত থাকতে হবে।

ই পাসপোর্ট ফি এবং পেমেন্ট পদ্ধতি

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে। আপনি পাসপোর্টের কত পৃষ্ঠা, কত মেয়াদ এবং কত দ্রুত ডেলিভারি চাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারণ করা হয়। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে একটি টেবিল দেওয়া হলো।

পাসপোর্টের ধরন (পৃষ্ঠা ও মেয়াদ)রেগুলার ফি (২১ কার্যদিবস)এক্সপ্রেস ফি (১০ কার্যদিবস)সুপার এক্সপ্রেস (২ কার্যদিবস)
৪৮ পৃষ্ঠা ও ৫ বছর মেয়াদ৪,০২৫ টাকা৬,৩২৫ টাকা৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা ও ১০ বছর মেয়াদ৫,৭৫০ টাকা৮,০৫০ টাকা১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা ও ৫ বছর মেয়াদ৬,৩২৫ টাকা৮,৬২৫ টাকা১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা ও ১০ বছর মেয়াদ৮,০৫০ টাকা১০,৩৫০ টাকা১৩,৮০০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরের টেবিলে দেওয়া প্রতিটি ফি এর সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা আছে। অর্থাৎ আপনাকে এর বাইরে আর কোনো টাকা দিতে হবে না।

পেমেন্ট কীভাবে করবেন?

ফি জমা দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অনলাইনে পেমেন্ট করা। আপনি অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার পর সরাসরি ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে পারেন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের এ-চালান ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফি জমা দেওয়া যায়। পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি পেমেন্ট রশিদ পাবেন।

এছাড়া আপনি চাইলে সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক বা ঢাকা ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে অফলাইনেও টাকা জমা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে আপনাকে একটি জমা রশিদ দেওয়া হবে।

পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক এবং ছবি তোলা

আবেদন ফরম পূরণ এবং ফি জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট বা তারিখ দেওয়া হবে। ওই নির্দিষ্ট তারিখে আপনার সমস্ত মূল কাগজপত্র, আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি এবং ফি জমার রশিদ নিয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার পর প্রথমে আপনার কাগজপত্র চেক করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে ছবি তোলা এবং বায়োমেট্রিক রুমে পাঠানো হবে। সেখানে আপনার দুই হাতের দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে, চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হবে এবং ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা হবে।

মনে রাখবেন, পাসপোর্ট অফিসে ছবি তোলার সময় এমন কোনো পোশাক পরবেন না যা সাদা রঙের বা খুব বেশি হালকা। গাঢ় রঙের পোশাক পরাই ভালো। আর চশমা বা টুপি পরে ছবি তোলা যায় না। বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হলে আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। এটি খুব যত্ন করে গুছিয়ে রাখবেন, কারণ পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় এটি অবশ্যই দেখাতে হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া

যারা প্রথমবার ই পাসপোর্ট করছেন, তাদের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি বাধ্যতামূলক ধাপ। বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর আপনার ফাইলটি বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বা এসবির অফিসে পাঠানো হবে।

আপনার এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আপনার বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানায় আসবেন। তিনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ, পেশার প্রমাণপত্র ইত্যাদি দেখতে চাইতে পারেন। অনেক সময় তারা আপনাকে থানায় বা তাদের অফিসে ডাকতে পারে। পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনার সব তথ্য সঠিক থাকলে খুব সহজেই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে যায়। ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পজিটিভ হলে আপনার পাসপোর্ট প্রিন্টিং শাখায় চলে যাবে।

ই পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা চেক করবেন কীভাবে?

আবেদন করার পর সবারই মনে একটা উত্তেজনা কাজ করে যে পাসপোর্টটি এখন কোন অবস্থায় আছে। e passport application bd পোর্টাল থেকে খুব সহজেই পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করা যায়।

ওয়েবসাইটে চেক স্ট্যাটাস অপশনে গিয়ে আপনার ডেলিভারি স্লিপে থাকা অ্যাপ্লিকেশন আইডি নম্বর এবং আপনার জন্ম তারিখ দিলে আপনি দেখতে পাবেন পাসপোর্টটি এখন কোন পর্যায়ে আছে। যেমন, পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে, নাকি প্রিন্টিং হচ্ছে, নাকি ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত। এছাড়া স্ট্যাটাস পরিবর্তন হলে আপনার ইমেইল এবং মোবাইল নম্বরেও এসএমএস করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

পাসপোর্ট সংগ্রহ করা

যখন আপনার স্ট্যাটাসে দেখাবে পাসপোর্ট রেডি ফর ইস্যুঅ্যান্স বা আপনার মোবাইলে মেসেজ আসবে, তখন বুঝতে হবে পাসপোর্টটি আপনার হাতে আসার জন্য তৈরি। এরপর আপনি আপনার সেই ডেলিভারি স্লিপ এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে চলে যাবেন।

পাসপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারে স্লিপটি জমা দিলে তারা আপনার আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখবে। বায়োমেট্রিক মিলে গেলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ই পাসপোর্টটি আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিজের নাম, জন্ম তারিখ এবং অন্যান্য তথ্য ঠিক আছে কিনা তা একবার ভালোভাবে চেক করে নেবেন।

e passport application bd সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও কিছু ছোট ভুলের কারণে অনেক সময় পাসপোর্ট আটকে যায়। তাই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

  • অনলাইনে ফরম পূরণের সময় নামের বানান বা জন্ম তারিখ যেন কোনোভাবেই জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে অমিল না হয়।
  • ছবি তোলার দিন চোখে কন্টাক্ট লেন্স পরা থেকে বিরত থাকুন।
  • আপনার বর্তমান ঠিকানা যদি ভাড়া বাসা হয়, তবে ভেরিফিকেশনের সুবিধার্থে বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে রাখবেন।
  • দালালদের থেকে শতভাগ দূরে থাকবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি আপনি নিজেই করতে পারবেন।
  • ইমেইল আইডি এবং মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই নিজের এবং সবসময় চালু থাকে এমনটি ব্যবহার করবেন।

উপসংহার

সবশেষে বলা যায়, ই পাসপোর্ট করার নিয়ম এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আধুনিক। আপনাকে শুধু সঠিক তথ্যগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সাথে রাখতে হবে। এই আর্টিকেলটি ফলো করলে আশা করি e passport application bd সম্পর্কিত আপনার আর কোনো দ্বিধা থাকবেবিধা থাকবে না। আপনি ঘরে বসেই ল্যাপটপ বা মোবাইলের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে ফেলতে পারবেন কোনো রকম বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই। একটি নির্ভুল পাসপোর্ট আপনার বিদেশ যাত্রাকে করবে আরও নিরাপদ ও চিন্তামুক্ত।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ই পাসপোর্ট করতে কত দিন সময় লাগে?

আপনি কোন ডেলিভারি অপশন বেছে নিয়েছেন তার ওপর এটি নির্ভর করে। রেগুলার অপশনে ২১ কার্যদিবস, এক্সপ্রেস অপশনে ১০ কার্যদিবস এবং সুপার এক্সপ্রেস অপশনে ২ কার্যদিবস সময় লাগে। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে সময় লাগলে এই সময়সীমা কিছুটা বাড়তে পারে।

২. সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট করার জন্য কি আলাদা কোনো কাগজ লাগে?

হ্যাঁ, আপনি যদি সুপার এক্সপ্রেস বা ২ দিনে পাসপোর্ট পেতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই সরকারি চাকরিজীবী হতে হবে অথবা অতি জরুরি কোনো কারণ যেমন বিদেশে চিকিৎসাপত্র বা জরুরি স্কলারশিপের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। সাধারণ মানুষ সুপার এক্সপ্রেসের সুবিধা সব সময় পান না।

৩. আমার আগের এমআরপি পাসপোর্ট আছে, আমি কি ই পাসপোর্ট করতে পারব?

অবশ্যই পারবেন। নতুন করে ই পাসপোর্ট করার সময় আপনাকে আগের এমআরপি পাসপোর্টের তথ্য ফরমে উল্লেখ করতে হবে এবং বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন আগের পাসপোর্টের মূল কপি এবং ডাটা পেজের ফটোকপি সাথে নিয়ে যেতে হবে।

৪. জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে কি ই পাসপোর্ট করা সম্ভব?

আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয়, তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। তবে বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে ই পাসপোর্ট করা সম্ভব।

৫. ই পাসপোর্টের ফি কি বিকাশে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার পর পেমেন্ট ধাপে গিয়ে আপনি এ-চালান অপশন সিলেক্ট করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে খুব সহজেই পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

৬. পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় কি টাকা দিতে হয়?

না, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য কোনো প্রকার ফি বা টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার সব কাগজপত্র সঠিক থাকলে বিনামূল্যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

৭. পাসপোর্টের ফরমে কোনো ভুল হলে কী করব?

যদি আবেদন অনলাইনে সাবমিট করার পর ভুল ধরা পড়ে, তবে ফি জমা দেওয়ার আগে নতুন করে আরেকটি আবেদন করতে পারবেন। আর ফি জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বিনয়ের সাথে জানালে তারা সেটি সিস্টেম থেকে সংশোধন করে দিতে পারেন।

1 thought on “ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application) – ২০২৬ সালের সহজ ও সম্পূর্ণ পদ্ধতি”

Leave a Comment