ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application bd)

দেশের বাইরে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ভাবলেই সবার প্রথমে যে জিনিসটি মাথায় আসে তা হলো পাসপোর্ট। একটা সময় ছিল যখন পাসপোর্ট করা মানেই ছিল দীর্ঘ লাইন, দালালদের দৌরাত্ম্য আর মাসের পর মাস অপেক্ষার পালা। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে সেই দিন পাল্টে গেছে। এখন ঘরে বসেই খুব সহজে ই পাসপোর্ট করার নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করা সম্ভব। আপনি যদি e passport application bd লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকেন এবং একটি সঠিক ও বিস্তারিত তথ্যসমৃদ্ধ লেখা খুঁজছেন, তবে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনার মনে পাসপোর্ট নিয়ে আর কোনো দ্বিধা থাকবে না।

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কীভাবে আপনি নিজে নিজেই অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, ফি কত এবং কোথায় কীভাবে জমা দিতে হবে। কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই আপনি যেন খুব সহজে আপনার কাঙ্ক্ষিত ই পাসপোর্ট হাতে পান, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। চলুন তাহলে আর দেরি না করে মূল আলোচনায় প্রবেশ করি।

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application ) – ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

যেকোনো কাজের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। তেমনি ই পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রেও কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। যারা e passport application সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি খুব সহজভাবে ভেঙে ভেঙে আলোচনা করা হলো।

প্রথম ধাপ: অনলাইনে আবেদন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন

পাসপোর্ট করার প্রথম কাজটি হলো বাংলাদেশ সরকারের ই পাসপোর্ট পোর্টালে গিয়ে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। এটি খুবই সহজ একটি কাজ।

প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে বাংলাদেশ সরকারের ই পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সেখানে উপরে ডানদিকে অ্যাপ্লাই অনলাইন নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করলে আপনাকে একটি নতুন পেজে নিয়ে যাবে।

এখানে আপনাকে প্রথমে আপনার বর্তমান ঠিকানা অর্থাৎ আপনি এখন যে জেলায় এবং থানায় আছেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। এর কারণ হলো, আপনি যে এলাকার ঠিকানা দেবেন, আপনাকে সেই এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর আপনাকে একটি সচল ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে হবে। ইমেইলটি অবশ্যই আপনার নিজের এবং সচল হতে হবে, কারণ এখানেই আপনার পাসপোর্টের সব আপডেট আসবে। ইমেইল দেওয়ার পর আপনার নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। সব তথ্য ঠিকঠাক দিলে আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক যাবে। সেই লিংকে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড সেট করলেই আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরির কাজ শেষ।

দ্বিতীয় ধাপ: ই পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ

অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। এরপর অ্যাপ্লাই ফর আ নিউ ই পাসপোর্ট অপশনে ক্লিক করুন। এখন আপনার সামনে একটি বড় ফরম আসবে। এই ফরমটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত। তাড়াহুড়ো না করে খুব সাবধানে প্রতিটি তথ্য পূরণ করতে হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য অংশে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, পেশা, ধর্ম এবং জন্মস্থান ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে। মনে রাখবেন, এখানে আপনি যে নাম বা জন্ম তারিখ দেবেন তা যেন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের পোর্টালে থাকা তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। সামান্য একটি অক্ষরের ভুল থাকলেও পরে অনেক বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

ঠিকানার অংশে আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে। আপনি যদি বর্তমানে আপনার স্থায়ী ঠিকানাতেই থাকেন, তবে একটি বক্সে টিক দিলেই দুটি ঠিকানা এক হয়ে যাবে। আর যদি আলাদা হয়, তবে বর্তমান ঠিকানাটি খুব স্পষ্টভাবে লিখতে হবে, কারণ পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ আপনার এই ঠিকানাতেই আসবে।

আইডি ডকুমেন্ট অংশে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিতে হবে। আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়, তবে জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে। এরপর জরুরি যোগাযোগের জন্য আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন বা স্ত্রীর নাম ও নম্বর দিতে হবে, যাতে কোনো বিপদে পাসপোর্ট অফিস তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application bd)

তৃতীয় ধাপ: পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ নির্বাচন

ফরমের শেষের দিকে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনি কত পৃষ্ঠার এবং কত বছর মেয়াদের পাসপোর্ট চান। বর্তমানে ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট দেওয়া হয়, যার মেয়াদ থাকে ৫ বছর অথবা ১০ বছর।

আপনি যদি খুব বেশি দেশের বাইরে যাতায়াত করেন, তবে ৬৪ পৃষ্ঠার এবং ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে বারবার পাসপোর্ট রিনিউ করার ঝামেলা থাকে না। আর যদি মাঝে মাঝে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট করতে চান, তবে ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট নিতে পারেন।

উপসংহার

সবশেষে বলা যায়, ই পাসপোর্ট করার নিয়ম এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আধুনিক। আপনাকে শুধু সঠিক তথ্যগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সাথে রাখতে হবে। এই আর্টিকেলটি ফলো করলে আশা করি e passport application bd সম্পর্কিত আপনার আর কোনো দ্বিধা থাকবেবিধা থাকবে না। আপনি ঘরে বসেই ল্যাপটপ বা মোবাইলের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে ফেলতে পারবেন কোনো রকম বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই। একটি নির্ভুল পাসপোর্ট আপনার বিদেশ যাত্রাকে করবে আরও নিরাপদ ও চিন্তামুক্ত।

1 thought on “ই পাসপোর্ট করার নিয়ম (e passport application bd)”

Leave a Comment